আলো ছায়ার আধারে

imagesএকটি বিশেষ প্রয়োজনে আমাকে বিকেলের পর পুরান ঢাকায় নিজ এলাকায় ঘন্টা খানেক সময় দিতে হয় তখন মাঝে মধ্যে মহল্লার একটি নির্দিষ্ট স্থানে ক্লাবে আড্ডা দিতে যাই, উদ্দেশ্য ছেলেবেলার এলাকায় পুরোনো বন্ধুদের সাথে কিছু সময় কাটানো । আর মজার মজার খাবারের আতিথ্য। তাছাড়া ক্লাবটি প্রতিষ্ঠায় আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা থাকায়, আমি সেটার আজীবন সদস্য, নিজ এলাকায় বসবাস না করার কারনে আমি এক রকম অনিয়মিতই ক্লাবে।
সেখানে আমার একজন পরিচিত বড়ভাইসম বন্ধুজন ছিলেন, আসাদ ভাই, পেশায় বেকার,একসময় সরকারি গ্রন্থাগারিক ছিলেন,পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া একটি দোতালা বাড়ীর মালিক,ধনী না হলেও অসচ্ছল নন,বাড়ী ভাড়াতেই সংসার চালান, স্ত্রী সহ স্কুল পড়ুয়া দুই পুত্রের জনক। তিনি আমার থেকে বয়সে বেশ বড়ই হবেন, এলাকার লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন কিন্তু ঘনিষ্ঠতা বা সখ্যতা ছিলোনা,ভয়াবহ রকম হাসিখুশি, আমাকে বিনা কারনেই তার খুব পছন্দ এবং আমি ভয়াবহ ভাবে তার খাতিরের শিকার ছিলাম। আমার কাচা পাকা চুল ছিলো তার আক্রমনের আর তামাশার বিষয়, তিনি নিজেকে একজন হিউম্যান এন্সাইক্লোপেডিয়া মনে করতেন , না জানলেও সব আড্ডার বিষয়ে একটা মতামত দিতেন , প্রতিটি আর্গুমেন্টে চোখ ও চশমা কপালে তুলে একটা বিশাল হাইপোথিসিস ত্যাগ করতেন । আমিও যুক্তি কৌশলে তাকে সামলাতাম, বুঝতাম উনি উপোভোগ করতেন। তার পছন্দের কারনে মাঝে মাঝে ভালোই যন্ত্রনা পোহাতে হোতো আমাকে।
আমি বাসায় রাতে একটু আর্লি ঘুমাইতে চাই , উনি আমাকে ফোন দিয়া দেশের কি হবে, স্টক মার্কেটের কি অবস্থা, টক শোতে কে কি বল্লো আলাপে ঘুমের দফা রফা করতেন। আমি আড্ডায় ক্লান্ত হয়ে একটু নিরিবিলি স্পেস চাই , উনি আমাকে গ্রুপ ডিসকাশনে নিয়া ফেলতেন , আমি ক্লাবে টিভিতে খবর দেখতে চাই , উনি চোখ বড় বড় করে বলতেন কি খবর শুনবেন খবরে আজকাল সত্য বলে কিছু আছে নাকি ” বলেই রিমোটটি দখলে নিতেন এবং বোধকরি নিজের অজান্তেই রিমোট চাপতে চাপতে ঝলমলে কোনো ভারতীয় চ্যানেলে গিয়ে আটকে যেতেন ” , এমনকি আমি ক্লাবে আমার প্রিয় খিড়ী কাবাব খেতে বসলে উনি উড়ে এসে হা-হা করতে করতে মাথা ঝাকিয়ে বলতেন,”টেক ভেজিটেবলস,ম্যান ; ইটস্ কোলেস্টোরল “বলেই দু তিন পিস নিজের মুখে লোপাট করে দিতেন। আর আমার ধুম্রশলাকার স্টক তো ওনার নিজস্ব সম্পত্তি ছিল । ক্লাবে তার তৎপরতা মোটামুটি ফানি ভিডিও ক্লিপ হিসেবে বাজারে ছাড়ার যোগ্যতা রাখতো । ভদ্রলোকের চেহারাটা দেখতে কফিনের মত , চারকোনা । ক্লাবের সবাই তার কর্মকাণ্ডে মজা পাওয়ার সাথে সাথে বিরক্তও হোতো আমি মেজাজ খারাপ করে একদিন বলেই ফেললাম ,”লুক ইফ ইউ হ্যাভ এনিথিং রেলেভেন্ট টু টক এ্যাবাউট, দেন টক ; আদারওয়াইজ , প্লিজ ডোন্ট ” আমার দেখাদেখি আরো কয়েকজন কিছু কথা শুনিয়ে দিলো।
সে সম্ভবত আমার কথায় খুব কষ্ট পেয়েছিলো। কদিন ধরে চুপচাপ মন খারাপ করে একজায়গায় বসে থাকতেন, তার নিয়মিত চাঞ্চল্য বিদায় নিয়েছিলো, সেই জন্য বন্ধুসহ অন্যরা আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলো, কড়া ভাষায় তাকে শুধরাতে বলার জন্য । কিন্তু আমার নিজেরো একটু খারাপ লাগতো ওনার নিরবতায়, অতটা রুক্ষ না হলেও পারতাম । তারপরও একটু ভাব নিয়ে থাকতাম যেনো আবার পেয়ে না বসে, একদিন আর ভালো লাগছিলো না, নিজেই সেধে তার কাছে গেলাম, হেসে জিজ্ঞেস করলাম, কেমোন আছেন,বিব্রত হাসিতে উত্তর দিলেন জি ভালো,আপ্নি ভালোতো ?
সেদিন তার মন ভালো করার জন্য তার একটা ছবি তুলে দিলাম। সে অনেকক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাত আমার ফোনটা হাত থেকে নিতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় ফেলেই দিলো আমি চরম বিরক্ত ও হতাশ হয়ে তাকাতেই ,তিনি নির্বিকার ভাবে বললেন,”গুডশট,হাসান ভাই;আই লুক লাইক আ পলিটিশিয়ান দাড়ান সবাইকে একটু দ্যাখাইয়া আনি। বলেই ছুট, আমার সাথের বন্ধুরা বল্লো দেখলি চুপচাপ ছিলো ভালো ছিলো ক্যান গেলি খাতির দেখাইতে?

মুহূর্তে সামলে ওঠা, আমার মাথায় তখন অন্য চিন্তা , কেনো যানি মনে হোলো ভদ্রলোক প্রচণ্ড দুঃখী একজন মানুষ । এই হই চই হাসি ঠাট্টা তামাশা সবই কোনো কিছুকে আড়াল করার জন্য, ক্লাবে এসে হইহুল্লোর করে নিজেকে ভুলিয়ে রাখেন। একদিন বসবো ওনার সাথে, কে যানে কোনো লেখার প্লট পেয়ে যেতে পারি হয়তো। পরবর্তীতে নানান কাজ, আর বিদেশ থাকার কারনে অনেক দিন ক্লাবে যাওয়া হয়নি, আর বসা হয়নি, তবে আমার সেই ধারনা সত্যি হয়েছিলো। একদিন পত্রিকার পাতায় ভদ্রলোকের ছোট্ট ছবি দেখে নীচে ক্যাপশনটা পড়েই এক বন্ধুকে ফোন দিলাম, তার কাছে শুনলাম,ভদ্রলোকের করুন পরিনতি, স্ত্রী চরম বদমেজাজী মহিলা, কিছু করতেন না বলে সবসময় স্বামীকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সাথে অপমান করতেন, সন্তান গুলোও মায়ের মত বাবাকে সন্মান করতোনা। আরো কিছু না জানা কষ্ট ছিলো বোধহয়,
পারিবারিক অশান্তিতে ভদ্রলোক চলন্ত ট্রেনের নীচে নিজ শরীর পেতে দিয়েছিলেন।

এক বন্ধুর কাছে পরে শুনেছিলাম আত্মহত্যা করার কিছুদিন আগে থেকেই নাকি উনি আমাকে খুজছিলেন আমার সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছিলেন, ওই সময় আমি দেশের বাইরে, কেনো খুজেছিলেন আমাকে? কিছু কি বলতে চেয়েছিলেন, নিয়তিই বোধহয় দেখা হতে দিলো না । ঘটনার কিছুদিন পর আমি আবার একদিন ক্লাবে গেলাম,আমাদের ফুটফরমায়েশ খাটা ছেলেটা এসে সালাম দিয়ে নিচু স্বরে বল্লো স্যার আসাদ সাহেব একটা চিঠি দিয়ে গেছেন শুধু আপনার হাতে দেয়ার জন্য আর বলেছেন এটার কথা আর কেউ যেনো না জানে । অনেকটা কাপা হাতেই চিঠিটা খুললাম, মোটামূটি দীর্ঘ চিঠি, বাসায় গিয়ে পড়বো বলে ভাজ করে পকেটে ঢুকালাম। প্রিয় পাঠক প্রয়াত আসাদ ভাই চিঠিতে লেখা বিষয় বস্তু কাউকে জানাতে সবিনয়ে নিষেধ করেছেন,তাই তা বিস্তারিত প্রকাশ করলাম না, তবে চিঠিটা পড়ার সময় আমার চোখ পানিতে ভরে গিয়েছিলো, পৃথিবীতে সবচেয়ে কাছের আপন মানুষগুলো তার সাথে দিনের পর দিন বছরের পর বছর যে অন্যায় আচরন, মানসিক অত্যাচার, করে যাচ্ছিলো,শুধু ধৈর্যশীল সরল ও পরিবার প্রীতির কারনে তিনি তা সহ্য করে গেছেন। খানিকটা ভিতুও হয়তো ছিলেন, যার কারনে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন নি । কোনো এক অদ্ভুত কারনে আমাদের সমাজ স্ত্রী-সন্তানদের হাতে স্বামীদের নিগ্রহের চিত্রটি লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে, অনেকসময় যার পরিনতি হয় এরকম।
সত্যি হাসি খুশি চেহারার পিছনে মানুষের কত কান্নাই না লুকিয়ে থাকে…।

ঘোলা পানিতে মৎস্য শিকার

images৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের ‘চেষ্টার পর’ সোনালী ব্যাংক আবিষ্কার করেছে যাদের নামে এসব ঋণ নেয়া হয়েছে সেরকম ২৫টি কোম্পানির হদিস পাওয়া সম্ভব নয়। তাদের সিদ্ধান্ত, যেহেতু এই টাকা উদ্ধারের কোন সম্ভাবনা নেই সেহেতু এই ঋণ ‘রাইট অফ’ করা হয়েছে। অর্থাৎ এগুলো আর হিসাবেই থাকছে না। (২) যারা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে তাদের ঋণ পুনঅর্থায়ন বা রিশিডিউল করবার সময়সীমা আরও ১২ বছর বাড়ানো হয়েছে। সুদের হারও কমানো হয়েছে। বেক্সিমকোর ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া ঋণ নিয়ে করা আবেদন থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত। (৩) সুন্দরবনধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজের জন্য অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করতে ভারতের এনটিপিসি চাপ দিচ্ছে, কারণ শর্ত শিথিল না করলে ভারতের নির্ধারিত কোম্পানি এই কাজ পাবে না। সেই মোতাবেক কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। (৪) এইচএসবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের অর্থ পাচারের খবর একটু প্রকাশিত হয়েছে। (৫) সরকার আগামী ছয়মাসে আবুধাবী ও সৌদী আরব থেকে ১৩ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে ১০৪=১১৪ মার্কিন ডলার মূল্যে যেখানে আন্তর্জাতিক বাজার দর হচ্ছে ৫৬ মার্কিন ডলার। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী এরজন্য মোট খরচ হবে ৯৩৭৩ কোটি টাকা যা প্রকৃত দামের দ্বিগুণ। মানে জনগণের বাড়তি খরচ ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। হরতাল অবরোধ আর জ্বালাও পোড়ায়ের ডামাডোলে, আড়ালে চলে যাচ্ছে এইসব পুকুরচুরি,একেই বুঝি বলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার ।

সুত্রঃ এ,মোহাম্মাদ।

তৈলমর্দন

দুইদিন আগের এই খবরটা চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল। আবুধাবী আর সউদি আরব থেকে ১৩ লক্ষ টন ক্রুড পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যবস্থা হচ্ছে। মজার ব্যাপার তিনদিন আগে অ্যাপ্রুভ করা এই প্রপোজ্যালে তেলের দাম ধরা হয়েছে ব্যারেল প্রতি ইউএস ডলার ১১৭.৮৮ থেকে ১২৭.৮৮ (যার মধ্যে ক্যারিয়িং চার্জ, সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট ইত্যাদি খরচও ইনক্লুডেড)। আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিলে তেলের দাম পড়ছে ইউএসডি ১০৪ থেকে ১১৪।

যারা ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স অথবা বিজনেসের খবর রাখেন তারা উপরের এই দামগুলো দেখে নিশ্চয় মাথা চুলকোবেন। ভাবতে বসবেন এ কীভাবে সম্ভব। তাদের কপালের ভ্রূ সেকেন্ড ব্র্যাকেটের আকার নেবে যখন তারা জানতে পারবেন যে এই প্রপোজাল যখন পাঠানো হয় তখন ব্যারেল প্রতি তেলের দাম বিশ্ববাজারে ছিল ইউএসডি ৮২ আর যখন অ্যাপ্রুভ করা হয় তখন ছিল ইউএসডি ৫৬। এতে পার্সেন্টেজ টার্মসে ভ্যালুয়েশনের পার্থক্য ধরা পড়বে। তবে আমদানিকৃত তেলের কোয়ান্টিটিকে প্রপোজ্যালে কোট করা প্রাইস দিয়ে গুণ মারলে এখানে ‘ডিল’-এর সাইজ বোঝা যাবে। এই ক্রুড অয়েল আনার জন্যে খরচ পড়বে ইউএসডি ১.১৯ বিলিয়ন অথবা প্রায় ৯,৩৭৩ কোটি টাকা।

যাক দেখে খুব ভালো লাগছে যে আজকাল বিশ্ববাজারের প্রাইসের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দামে তেল কিনে গালফ মনার্কিকে আজকাল বেইলআউট করছে বাংলাদেশ। বেইলআউট ছাড়া আর কিছু লিখতে পারছিনা কারণ কোনও ইকনোমিক প্রিন্সিপলে এই দামের পার্থক্যকে জাস্টিফাই করা যাচ্ছেনা। চিন্তাটা এখানেই থামিয়ে দেয়া যেত, কিন্তু হঠাত মনে পড়ে একটি সাম্প্রতিক সাফল্যের ঘটনা।

সউদী আরবের শ্রমবাজারে মাসে ১৬,০০০ টাকায় ক্লুলেস যৌনদাসী … আই এম স্যরি … গৃহকর্মী রপ্তানির কথা শোনা গেছে কদিন আগেই। ধারণা করা যাচ্ছে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ কারণে তেলের পেছনে যে বাড়তি পয়সা যাচ্ছে তা দিয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা (অথবা অন্য কিছুতে) খরচ করে দেশের দরিদ্র কর্মজীবি নারীদের এই ওয়েল ডক্যুমেন্টেড শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করা হয়ে উঠছেনা। এই কেইসগুলো প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আনরিপোর্টেড দেখে এবং এই বিষয়ে কোনও অ্যাক্টিভিজম দানা বেঁধে না ওঠায়, একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে ফুঁ দিয়ে ঊড়িয়ে দেয়া খুব সহজ। আর বিচ্ছিন্ন না হলেই বা কী? ‘গরীব মানুষ না হয় হলোই একটু ইয়ে … ওরকম কিছুতো বাংলাদেশেও হতে পারতো … আর কিছু নাহোক খেয়েপড়েতো বেঁচে থাকতে পারবে’ – এই ধরণের প্রবোধ মনকে দিতে সমস্যা নেই কোনও।

সব মানিয়ে নিলাম। কিন্তু একটা ব্যাপার বার বার শীতকালে মশারীর ভেতর ঢুকে যাওয়া একমাত্র মশাটার মতন পিনপিন করে যাচ্ছে। এই আধা বিলিয়ন ডলার বেশি দিয়ে কেনা তেল দিয়েই কি লুব্রিকেট করা হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমের বাজারের আটকে যাওয়া দরজার পাল্লা?

তথ্যসূত্রঃ Nayel Rahman & http://bit.ly/1JdrlI7

উপলব্ধি

3.jpg men

ছোট্ট জীবনের প্রত্যেকটা ঘটনাই একটা করে বিশাল শিক্ষা … প্রথমবার হাঁটতে গিয়ে আমি ভারসাম্য হারিয়ে যেমন পড়ে গিয়েছিলাম … সেরকম জীবনের যে কোন কিছুতেই আমি প্রথমে ব্যালেন্স হারাবো … ব্যথা পাবো, কষ্ট পাবো, তীব্র কষ্ট পাবো !!
আচ্ছা, কেউ কখনো আমার চোখে যদি পানি না আনতো, আমি কি করে বুঝতাম যে হাতের উলটো পিঠ দিয়ে চোখের পানি মুছে ঠোঁটটা বাকিয়ে একটা হাসি দিতে হয় ??
কেউ আমাকে তীব্র কষ্ট না দিলে আমি কি করে বুঝতাম যে আমার ভেতর এতটা সহ্য করার ক্ষমতা আছে ??
জীবনে বড়সড় একটা ধাক্কা না খেলে আমি কিভাবে বুঝতাম যে আমি অনেক কিছু সামলাতে পারি ??
মন খারাপ করা রাতগুলো আমার খুব ভালো লাগে … প্রতিটা মন খারাপ করা রাতে আমি শিখেছি শিখছি,জেনেছি,জানছি … একটু একটু করে শক্ত হয়েছি,হচ্ছি !!
কষ্ট দেয়া মানুষগুলাকে ধন্যবাদ … ধাক্কা দেয়া বাস্তবতাগুলোকে ধন্যবাদ … একদিন আমার হয়তো আর তেমন কষ্ট লাগবে না, একদিন আমি আর ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাবো না … তার আগ পর্যন্ত কষ্টগুলো আমার ঘাড়ে চেপে বসে থাকুক … থাকুক না … দেখি, কতক্ষণ থাকতে পারে !!”

বসন্তে ফুল ফুটবেই

আজ পহেলা ফাগুন বসন্তের আগমনি নিয়ে এসেছে আমাদের কাছে, ফাগুন শুধু একটি সময় নয় এ যেনো বাঙ্গালীর হৃদয়ে রঙের বিচ্ছুরণ । কবিতার পংতিতে স্তরে স্তরে সতেজ ভাব, খুব বেশি প্রভাব ফেলে যায় আমাদের মনে। আজ প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে বাতাসে ভেসে আসে শীতের বিদায় বেলার সুর, বসন্ত তার মায়াময় পেলবতার জানান নিয়ে আমাদের কাছে ডাকে প্রান ভরে সুবাস নিতে। ফাগুনের আনন্দ ছড়িয়ে যায় আকাশে বাতাসে মনে জাগে এক অপার্থিব অনুভুতি । রমনির খোপায় ওঠে পলাশ শিমুল, সাজ সাজ রব, লাল হলুদের সমারোহে পল্লবে আগুন ধরায় অশোক আর কৃষ্ণচূড়া । কবিরা মেতে ওঠে নুতন কবিতা সাজাতে, তেমনি পাখিরা কলতানে, এই রূপান্তর হৃদয়ে আলোড়ন তুলে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে প্রকৃতির এতো বৈচিত্র্য আর কোথাও নেই। ষড়ঋতুর উপমা শুধু আমরাই বুঝতে পারি, কারন গ্রীষ্মে বর্ষায় শরতে হেমন্তে শীতে বসন্তে আমদের দেশ প্রতিবার নুতন রুপে সাজে।